আম্মা, আসমান, নাস্তা শব্দে আপত্তি; পাঠ্যক্রমে শব্দ-সংস্কারে গেরিকীকরণ!

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন, কলকাতা

আম্মা, আসমান, নাস্তা শব্দে ঘোর আপত্তি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের। তারা সিলেবাসে এই শব্দগুুলি তুলে দিয়ে তৎসম শব্দ ব্যবহার করে ভাষার মধ্যে গৈরিকীকরণ করতে চায়।

তৃণমূল আমলে স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে ঠাঁই পাওয়া কিছু কিছু শব্দ নিয়ে ক’দিন আগেই আপত্তি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘‘মা কে আম্মা, আকাশ কে আসমান… প্ল্যান করে ভাষার বিকৃতি করা হয়েছিল। শিশুমনে বিভাজন ঘটানো হয়েছিল।” বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী বলার আগেই অবশ্য স্কুল-পাঠ্য(সিলেবাস) শব্দভান্ডার ঝাড়পোঁছ করার কাজ শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমের পরিমার্জনে সম্প্রতি তিন দিনের আবাসিক শিবির করেছে পাঠ্যক্রম কমিটি। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে হাতে পর্যাপ্ত সময় না-থাকায় পাঠ্যক্রমের পরিমার্জন ১০ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়। আপাতত পাঠ্যবইয়ের শব্দভান্ডার ‘শুদ্ধকরণ’-এর উপরে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। ইতিহাস, সাহিত্য, কর্মশিক্ষার মতো বিষয়ের পাঠ্যক্রমে কিছু অধ্যায় সংযোজন-বিয়োজনের প্রস্তাবও রয়েছে।

তৃণমূল জমানায় বাংলা ভাষায় মুদ্রিত পাঠ্যবইগুলিতে কিছু বিদেশি শব্দ জোর করে ঢোকানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। সরকার বদলের তিন মাস পরে গত ৪ আগস্ট পাঠ্যক্রম কমিটির প্রথম বৈঠকে শব্দ বদলের প্রস্তাব দেন নতুন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এর পর পাঠ্যক্রম কমিটির সদস্যদের ‘জোর করে ঢোকানো’ শব্দ দ্রুত চিহ্নিত করতে বলেন কমিটির চেয়ারম্যান। ১৭ অগস্ট থেকে বিধাননগরের নিবেদিতা ভবনে কমিটির তিন দিনের আবাসিক শিবিরে সদস্যদের তৈরি করা তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, ‘ফজর’, ‘আসমান’, ‘গোসল’, বা ‘দোস্ত’-এর মতো এ পার বাংলায় অপ্রচলিত বেশ কিছু শব্দ পাঠ্যবইতে ঢোকানো হয়েছিল। পাঠ্যক্রম কমিটিতে থাকা একাধিক বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, একে শব্দবদল না বলে জোর করে বিদেশি শব্দ ঢোকানো হিসেবেই দেখা উচিত। সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘আমাদের প্রতিবেশী বাংলাাদেশ রাষ্ট্রে আরবি বা উর্দু শব্দকে জোর করে বাংলার উপরে আরোপ করে তার শব্দভান্ডারকে বিকৃত করা হয়েছে। আমাদের রাজ্যের স্কুলপাঠ্য বইয়েও তেমনটা হয়েছে গত কয়েক বছরে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই হয়েছে।

অন্যদিকে কলকাতার বিশিষ্ট ভাষাতত্ত্ববিদ অধ্যাপক পবিত্র সরকার বলেন , বাংলাা শব্দ ভাণ্ডারে আরবি-পার্শি-তুর্কি-উর্দু মিলে ৬০০০ শব্দ রয়েছে যেগুলি এই শব্দভাণ্ডারকে বিকশিত করেছে। বঙ্গের তুর্কি শাসকরা বাংলাভাষাকে সর্বজনীন করেছে। আমরা কী করে ‘কাকা’-র মতো তুর্কি শব্দকে বদলাবো। এগুলোতো বাংলা হয়ে গিয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন